বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কমলগঞ্জে পুলিশের অভিযানে পরিত্যাক্ত স্থান থেকে পাইপগান উদ্ধার কমলগঞ্জে বন বিভাগ-বিজিবির যৌথ অভিযানে প্রায় ২৭ ঘনফুট সেগুন কাঠ জব্দ কমলগঞ্জে বন বিভাগ-বিজিবির যৌথ অভিযানে প্রায় ২৭ ঘনফুট সেগুন কাঠ জব্দ ফুলবাড়ি চা বাগান থেকে ১৭ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার পতনউষারে আলোর পথ ইসলামি ছাত্র সংগঠনের বৃক্ষরোপণ মৌলভীবাজারে জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গলে বিশেষ কর্মসূচি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক সালাহউদ্দিন শুভ,আশঙ্কামুক্ত কমলগঞ্জে ফলন্ত কমলা গাছ নিধনের ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন শ্রীমঙ্গলে র‍্যাব-৯-এর অভিযানে সাইবার অপরাধ মামলার মূলহোতা গ্রেপ্তার

শ্রীমঙ্গলে র‍্যাব-৯-এর অভিযানে সাইবার অপরাধ মামলার মূলহোতা গ্রেপ্তার

হালচাল ডেস্ক / ১২৭ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬


ডিভোর্স দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার চাঞ্চল্যকর সাইবার অপরাধ মামলার প্রধান আসামি মো. হাবিবুর রহমান (৩০)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকার ‘আলী স্টোর’-এর সামনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এই আসামির ওপর র‍্যাবের কড়া নজরদারি ছিল।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গলের হাবিবুর রহমানের সাথে ভুক্তভোগী নারী শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই হাবিবুর যৌতুকসহ নানা ইস্যুতে স্ত্রীর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী বাধ্য হয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করলে আইনগতভাবে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

বিবাহ বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হাবিবুর দাম্পত্য সম্পর্ক থাকাকালীন সংগৃহীত স্ত্রীর বিভিন্ন অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও এডিট করে চরম অশ্লীলভাবে বিকৃত করেন। পরবর্তীতে তা নিজ নামীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। শুধু তাই নয়, ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে তিনি সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা মোঃ জসিম মিয়া (৫৩) বাদী হয়ে সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৩’-এর ২২ ও ২৫ ধারায় মামলা দাখিল করেন (সাইবার পিটিশন মামলা নং- ৮৩/২০২৪)।
বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ শেষে সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) ফেরদৌস আরা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নালিশী দরখাস্তটি সরাসরি এজাহার (F.I.R) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। একই সাথে মামলার সার্বিক তদন্তভার মৌলভীবাজার সিআইডির (CID) বিশেষ পুলিশ সুপারকে প্রদান করা হয় এবং অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসসমূহ জব্দ করে ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়।

র‍্যাব-৯-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক প্রক্রিয়া ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে। সাইবার অপরাধ দমনে র‍্যাবের এ ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে এই জঘন্য সাইবার অপরাধের প্রধান আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সুশীল সমাজ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর