কমলগঞ্জে ভবঘুরে ইউসুফ মিয়ার অকাল মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সবার পরিচিত ও প্রিয়মুখ ভবঘুরে মানসিক ভারসাম্যহীন ইউসুফ মিয়া (৫০) আর নেই। তার এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি উপজেলার বাসিন্দা মরহুম ইয়াকুব আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অত্যন্ত শান্ত ও সুমিষ্ট স্বভাবের অবিবাহিত ইউসুফ মিয়া গত ২০-২৫ বছর ধরে মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনহীন অবস্থায় কমলগঞ্জ পৌর এলাকার আলেপুর, চণ্ডীপুরসহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতেন। কাঁধে বালতি ও কাপড়ের গাঁটরি নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করা ইউসুফ মিয়াকে স্থানীয় সবাই অত্যন্ত স্নেহ করতেন।
তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা বা নিকটাত্মীয়ের যোগাযোগ না থাকায়, মানবিক দিক বিবেচনা করে কমলগঞ্জ পৌরসভার উত্তর আলেপুর গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী (মৃত নওয়াব আলীর ছেলে) ইয়াকুব আলীর বাড়ির পূর্ব ভিটায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে তাকে একটি পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। গত প্রায় ১ বছর ধরে ইউসুফ মিয়া সেই ঘরে একাই বসবাস করে আসছিলেন।
গত ২৯ মে রাত ১০টার দিকে প্রবাসী ইয়াকুব আলীর ছেলে মাহবুবুর রহমান শরিফ ইউসুফ মিয়ার ঘরে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ভেবেছিলেন ইউসুফ মিয়া ঘুমিয়ে পড়েছেন। পরদিন ৩০ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবারো ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পাওয়ায় শরিফ বিষয়টি প্রতিবেশী ও বাড়ির লোকজনকে জানান।
স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ডাকাডাকি করেও কোনো শব্দ না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার এসআই আমির হোসেন এবং এসআই মিঠু রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিছানায় ইউসুফ মিয়ার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ উপস্থিত লোকজনের সামনে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
ময়নাতদন্ত শেষে গত ৩১ মে (রবিবার) দুপুরে চণ্ডীপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে আলেপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। প্রিয় ও শান্ত স্বভাবের এই মানুষটির জানাজায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
ইউসুফ মিয়ার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী ইয়াকুব আলীর ছোট ভাই মো. সোহেল আহমেদ (ইয়াছিন) বাদী হয়ে ৩১ মে কমলগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।







