বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
জমকালো আয়োজনে মৌলভীবাজার ওয়ারিয়র্সের জার্সি উন্মোচন মৌলভীবাজারে পার্কে উটপাখি ও এমুর ডিম, দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১২ চা বাগানের চা বিক্রয়ে নতুন ইতিহাস শ্রীমঙ্গলে পরিত্যক্ত জালে আটকে মারা গেল অজগর কমলগঞ্জে কাউন্সিলর প্রার্থী রুমনের উদ্যোগে ফলজ চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কমলগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত মৌলভীবাজারে ৮ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার; নগদ টাকা ও প্রাইভেটকার জব্দ লাউয়াছড়ায় দেখা গেলো বিরল উল্টোলেজি বানর কমলগঞ্জে ৫০০ টাকা মজুরি ও চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ

ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১২ চা বাগানের চা বিক্রয়ে নতুন ইতিহাস

সালাহউদ্দিন শুভ / ২১ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

দেশের চা শিল্পে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানী লিমিটেড। চট্টগ্রাম চা নিলাম বাজারে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নিলামে প্রতিষ্ঠানের ১২টি চা বাগানের উৎপাদিত চা বিক্রিতে গড়েছে সর্বকালের নতুন রেকর্ড। উচ্চমূল্যে বিপুল পরিমাণ চা বিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুধু নিজেদের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়নি, দেশের চা শিল্পের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

গত ৩ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলামে ন্যাশনাল টি কোম্পানীর ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ছিল ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা, যা সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকা ফ্লোর প্রাইস তুলনায় ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি। এত বিপুল পরিমাণ চা এর আগে কখনো এত উচ্চ গড় মূল্যে বিক্রি হয়নি, যা কোম্পানির ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোম্পানির আওতাধীন ১২ টি চা বাগানের প্রতিটি চায়ের গড় বিক্রয় মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ২৮০ টাকার বেশি। একই নিলামে সব বাগানের এমন উচ্চ গড় মূল্য অর্জনের নজির এর আগে কখনো তৈরি হয়নি। ফলে এবারের নিলামে ন্যাশনাল টি কোম্পানির ইতিহাসে অন্যতম সফল নিলাম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ নিলামে কোম্পানির মোট বিক্রয় আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সাফল্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান, ক্রেতাদের আস্থা এবং বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির স্পষ্ট প্রতিফলন।

শুধু নিলাম বাজারেই নয়, উৎপাদনেও ধারাবাহিক অগ্রগতি ধরে রেখেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানী। চলতি বছরের ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানির মোট চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং মান উন্নয়ন কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কোম্পানি সূত্র জানায়, চায়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে চা শ্রমিকদের “দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি” নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে কাঁচা পাতা সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উন্নতমানের কাঁচা পাতা সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি নিবিড় তদারকি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত চায়ের রং, সুগন্ধ, স্বাদ ও ঘনত্বের উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে। এরই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিলাম বাজারে, যেখানে কোম্পানির চা ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ অর্জন করে সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করেছে।

চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ন্যাশনাল টি কোম্পানীর এই সাফল্য দেশের চা শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চায়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ন্যাশনাল টি কোম্পানীর কোম্পানি সচিব এ. কে. আজাদ চৌধুরী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চা উৎপাদন, গুণগত উৎকর্ষ বজায় রাখা এবং দেশের চা শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করে যাবে। তিনি কোম্পানির উন্নয়ন ও দেশের চা শিল্পের অগ্রযাত্রায় চায়ের ভোক্তা, ক্রেতা এবং সকল শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।’


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর