মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গভীর রাতে একটি রাইস মিলসহ তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার মালামাল লুট এবং আরও প্রায় ৮ লাখ টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গুলের হাওর এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মো. বদিউজ্জামানের একটি রাইস মিল, একটি ওয়েল্ডিংয়ের দোকান ও একটি কফি হাউস রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে পূর্বশত্রুতা ও জমি দখলের উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে রাইস মিলের কেয়ারটেকারকে অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়। পরে রাইস মিলের ২০ হর্সপাওয়ারের একটি মোটর, ধান, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া কোটানো ও চাল গুঁড়া করার মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র নিয়ে যায় তারা।
এ ছাড়া ওয়েল্ডিংয়ের দোকানের মেশিন, অর্ডারের মালামাল, চারটি সাটার, ফ্যান, লোহার জানালা এবং একটি পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী বদিউজ্জামান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, লুটপাটের পাশাপাশি হামলাকারীরা দুটি দোকানকোঠার পাকা দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বদিউজ্জামান ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা তাঁকে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে তিনি ডাক-চিৎকার করে আত্মরক্ষা করেন এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের সহায়তায় পুলিশকে বিষয়টি জানান।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আমি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







