শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চা পাতা তুলতে গিয়ে খৈয়া গোখরা, আতঙ্কে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ কমলগঞ্জে কমলার বাগান উচ্ছেদ, ফিরছে বনের সবুজ কমলগঞ্জে ১ম কমিউনিটি পুলিশিং কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে মামলা প্রত্যাহারে হুমকির অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীর কমলগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফলাফলে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে বিশালাকার সেগুন গাছ চুরি কমলগঞ্জে ওয়ার্ড বিএনপি’র কাউন্সিল সম্পন্ন কমলগঞ্জে অটোরিক্সা থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে হামলা; আহত-১কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ প্রতিমন্ত্রী বারীর গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত নারীর মৃত্যু

কমলগঞ্জে কমলার বাগান উচ্ছেদ, ফিরছে বনের সবুজ

প্রতিনিধি,কমলগঞ্জ( মৌলভীবাজার): / ১০৮ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একসময় যেখানে ছিল অবৈধভাবে গড়ে তোলা কমলার বাগান, সেখানে এখন সারি সারি দেশীয় বৃক্ষের চারা। দখলদারির ছাপ মুছে দিয়ে বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে নতুন করে সবুজের স্বপ্ন বুনছে বন বিভাগ। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জি এলাকায় অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৫ একর বনভূমিতে রোপণ করা হয়েছে দেশীয় প্রজাতির প্রায় আড়াই হাজার বৃক্ষের চারা।

বনভূমি রক্ষায় শুধু জবরদখল উচ্ছেদ নয়, উদ্ধার করা জমি যাতে আবার দখলের কবলে না পড়ে এবং পতিত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পিত বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট বন বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ বনভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

সিলেট বন বিভাগের রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২ দশমিক ০২ হেক্টর, অর্থাৎ আনুমানিক ৫ একর বনভূমি অবৈধভাবে দখল করে কমলার বাগান গড়ে তোলা হয়েছিল। গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে ওই বনভূমি জবরদখলমুক্ত করে বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কমলার বাগান উচ্ছেদের পর বনভূমিটি আর পতিত না রেখে সেখানে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষের বনায়ন সৃষ্টির পরিকল্পনা নেয় বন বিভাগ। লক্ষ্য ছিল-উদ্ধার করা জমিতে দ্রুত সবুজায়ন সৃষ্টি করে বনভূমির হারানো বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখলের সুযোগ বন্ধ করা।

এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয় ৯ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের পরিচালন ব্যয় খাতের আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বনায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে উদ্ধার করা বনভূমিতে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির প্রায় ২ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়। রোপণ করা চারার মধ্যে রয়েছে বহেরা, চাপালিশ, কানাইডিঙ্গা, কালাউঝা, অর্জুন, চিকরাশি, রাতা ও জামসহ নানা দেশীয় বৃক্ষপ্রজাতি।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এসব চারা বড় হয়ে উঠলে শুধু বনভূমির সবুজ আচ্ছাদনই বাড়বে না, ধীরে ধীরে ফিরে আসবে স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ। তৈরি হবে পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, বাড়বে জীববৈচিত্র্য। একই সঙ্গে মাটি, পানি ও পরিবেশের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বনভূমি দখল করে কৃষি কিংবা বাগান স্থাপনের প্রবণতা বন সংরক্ষণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো একটি এলাকায় এভাবে দখল স্থায়ী হয়ে গেলে একদিকে যেমন বনভূমির পরিমাণ কমে যায়, অন্যদিকে ধ্বংস হয় প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য।

এ কারণে শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেই দায়িত্ব শেষ করতে চাইছে না বন বিভাগ। জবরদখলমুক্ত হওয়ার পর উদ্ধার করা জমিকে দ্রুত বনায়নের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কালিঞ্জির প্রায় ৫ একর বনভূমিতে দেশীয় বৃক্ষের চারা রোপণ তারই অংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি একই জমিতে পরিকল্পিত বনায়ন করা হলে বনভূমি পুনরায় দখলের ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথও তৈরি হবে।

বনায়ন সৃজন কার্যক্রমে রাজকান্দি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার তানভীর আহমেদ, আদমপুর, কামারছড়া ও কুরমা বিটের বিট কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিটের বনকর্মীরা অংশ নেন।

রাজকান্দি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, ‘বনভূমি জবরদখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা কিংবা বাগান করার সুযোগ নেই। উদ্ধার করা বনভূমি যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়ে বন বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। জবরদখলমুক্ত ভূমিকে দ্রুত বনায়নের আওতায় আনার মাধ্যমে বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন বনভূমিতে জবরদখল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতোমধ্যে যেসব বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বনায়নের আওতায় আনা হবে। বন রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশেষজ্ঞ ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, একটি বনভূমি কেবল গাছপালার সমষ্টি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মাটি, পানি, উদ্ভিদ, পাখি, কীটপতঙ্গসহ অসংখ্য প্রাণীর পারস্পরিক সম্পর্ক। বনভূমিতে বাণিজ্যিক বা কৃষিভিত্তিক বাগান স্থাপন করলে সেই স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ব্যাহত হয়। তাই অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি উদ্ধার করা জমিতে স্থানীয় বা দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে বন বিভাগ। কালিঞ্জিতে বহেরা, চাপালিশ, অর্জুন, চিকরাশিসহ নানা প্রজাতির চারা রোপণের মাধ্যমে সেই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর