বর্ণিল আয়োজনে কমলগঞ্জের আম্বিয়া কেজি স্কুলে ফল উৎসব
নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আম্বিয়া কেজি স্কুলে দিনব্যাপী এক চমৎকার ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব সম্পন্ন হয়।

সকাল ১০টা থেকেই প্লে-গ্রুপ থেকে শুরু করে কেজি ফাইভ পর্যন্ত মোট ৭টি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে হরেক রকমের দেশীয় ও মৌসুমি ফল নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হতে শুরু করে। প্রথম দিকে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শ্রেণির সামনের স্টলে ফলগুলো সাজিয়ে রাখে। পরবর্তীতে সেখান থেকে বাছাইকৃত বিভিন্ন জাতের ফল সংগ্রহ করে স্কুল মাঠে বড় স্টলে আকর্ষণীয়ভাবে প্রদর্শন করা হয়। দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

উৎসবে স্থান পাওয়া দেশীয় প্রায় ৩৯টি ফলের জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, সফেদা, চাম কাঁঠাল, আমড়া, পেয়ারা, আনারস ও পেঁপেসহ নানা প্রকারের বিলুপ্তপ্রায় ও মৌসুমি ফল।
শুধু প্রদর্শনীই নয়, শিক্ষার্থীরা আগত দর্শনার্থীদের সামনে এই ফলগুলোর পরিচিতি, পুষ্টিগুণ এবং মানবদেহে এগুলোর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে।

উত্সবের একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল ফল পরিচিতি পর্ব। ৭টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রদর্শিত ফলগুলোর সাথে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি দেখে ও ছুঁয়ে দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান লাভ করে।
মেলা পরিদর্শনে আসা অভিভাবকবৃন্দ বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের ফাস্টফুড বা কৃত্রিম খাবারের আসক্তি কমিয়ে দেশীয় পুষ্টিকর ফল খাওয়ার প্রতি দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করবে।

ফল উৎসব চলাকালীন সময়ে ফলের স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের এমন চমৎকার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন আম্বিয়া কেজি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সম্মানিত সদস্য দুরুদ আহমদ, কমলগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনসার শোকরানা মান্না, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম এবং কমলকুড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ।
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, আমন্ত্রিত অভিভাবকবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, যান্ত্রিক এই সময়ে শিশুদের ফাস্টফুড সংস্কৃতি থেকে বের করে এনে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।







