রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ধলাইয়ের বুকে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুর, মাছ শিকারের উল্লাসে শতবর্ষী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব আগামীকাল নিজ জেলা মৌলভীবাজারে আসছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কমলগঞ্জে পূজোর ছুটিতে পর্যটকদের ঢল আসামে ১১ শতাধিক বাংলাভাষী মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভাঙা হলো মসজিদ স্বর্ণের দামে বড় পতন ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুই নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সম্প্রীতির মেলবন্ধনে মৌলভীবাজারে মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর বড়লেখায় আলোচিত চুরির রহস্য উদঘাটন; চোরাই স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ৬ কমলগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মিনি ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ভয়ে আধাপাকা ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: / ৬০ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরপাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে আগাম আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত উপেক্ষা করে কৃষকরা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। তবে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় শ্রমিক সংকটও তীব্র হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বড়লেখা উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৯৫ হেক্টর হাকালুকি হাওর এলাকায় এবং ১ হাজার ৯৩০ হেক্টর নন-হাওর এলাকায়। ধানে থোড় আসার সময় থেকেই শুরু হয় টানা বৃষ্টিপাত। এর সঙ্গে উজানের ঢল যোগ হওয়ায় হাওরাঞ্চলের ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। ফলে প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের আধাপাকা ধান আগাম কেটে ফেলেন কৃষকরা।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৫০০ হেক্টরের বেশি জমির ধান কৃষকরা বাধ্য হয়ে পানিতে নেমে কেটে তুলছেন।

কৃষকদের মতে, ধান পুরোপুরি পাকার জন্য অপেক্ষা করলে সব ফসলই পানিতে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই লোকসান মেনেই আধাপাকা ধান কেটে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। অনেকেই নৌকার সাহায্যে ধান সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ কোমরসমান পানিতে নেমে কাজ করছেন। তবে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কাটা ধান ঘরে তোলা এবং শুকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ধানে আগাম অঙ্কুরোদগমও দেখা দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ, দাসেরবাজার, বর্ণি, সুজানগর ও তালিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমি থেকে আধাপাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কুটাউড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন মিয়া বলেন, ‘আমার দুই বিঘা জমির ধান পুরো পাকার পথে ছিল। চার-পাঁচ দিন আগে কাটার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পুরো হাওর ডুবে গেছে। এখন পানি না কমলে সব ধান পচে যাবে।’

একই এলাকার কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, ‘পানির মধ্যে নেমে ধান কাটছি, পরে নৌকায় করে উঠানে আনছি। কিন্তু বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে শুকাতে পারছি না। এতে একদিকে ফলন নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারেও দাম কম।’

কৃষকরা আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করতে শ্রমিকরা দ্বিগুণ মজুরি দাবি করছেন। তবুও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাকালুকি হাওরপাড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে আগাম ধান কাটায় কৃষকদের কিছুটা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।’


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর