শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কমলগঞ্জে মবশ্বির আলী চৌধুরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভা, শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলড্রেস ও গাছের চারা বিতরণ কমলগঞ্জে শিক্ষার্থীর মৃ/ত্যু; বিচার নিশ্চিত করতে মানববন্ধন কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে ভেলকিবাজির উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা কমলগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার হওয়া অজগর লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠল সিলেট হাম উপসর্গে সিলেটে আরও এক শিশুর মৃত্যু হামহাম জলপ্রপাত রোমাঞ্চ প্রিয়দের হাতছানি দিচ্ছে কুরমার গহীন অরণ্য লাউয়াছড়া উদ্যানের গাছ পাচারের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র

চাকরি পেয়ে ডিভোর্স, অনশন করে স্ত্রীকে ফিরে পেলেন যুবক

অনলাইন ডেস্ক / ৪৫ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
বিশ্বজিৎ পাত্র ও অনুশীলা বাড়ৈ | ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের ডাসারে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভালোবাসার পূর্ণতা মিলেছে। অবশেষে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন অনশনরত যুবক বিশ্বজিৎ পাত্র। এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে তিনি তার প্রিয়তমা স্ত্রী অনুশীলা বাড়ৈকে ফিরে পেয়েছেন। এতে নবদম্পতি ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে এ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনুশীলার বসতবাড়িতে অনশন করেন বিশ্বজিৎ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমাধানের আশ্বাসে তিনি অনশন তুলে নেন। শনিবার রাতে মীমাংসার জন্য আয়োজিত সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দুজনকে পুনরায় একত্র করেন।

বিশ্বজিৎ ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে। তিনি একটি গুঁড়ো দুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার প্রেমিকা পাশের বাড়ির মনোতোষ বাড়ৈর মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈ, যিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে বিশ্বজিৎ ও অনুশীলার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছয় বছর প্রেমের পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে চার বছর সংসার করেন। এ সময় বিশ্বজিৎ নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে প্রিয় মানুষের সব চাওয়া পূরণ করেন এবং লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে অনুশীলাকে নার্সিংয়ে পড়ান। কিন্তু হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি পাওয়ার পর অনুশীলা তাদের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যান এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে বিশ্বজিৎ জানতে পারেন, তাকে না জানিয়ে তার স্ত্রী ডিভোর্স দিয়েছেন।

আরও জানা যায়, এরপরই প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পেতে বিশ্বজিৎ অনুশীলার বাড়িতে অনশন শুরু করেন। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একাধিক গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে সামাজিকভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে দুই পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের নিয়ে পারিবারিকভাবে মীমাংসায় বসেন। সেখানে অনুশীলা নিজের ভুল বুঝতে পেরে সব অভিমান ভুলে আবার বিশ্বজিতের হাত ধরেন। অবশেষে বিশ্বজিৎ পাত্রের ভালোবাসার জয় হয়েছে। তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে ফিরছেন। তাদের এই ভালোবাসার বন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে- এমন প্রত্যাশা করেন এলাকাবাসী।

বিশ্বজিৎ পাত্র বলেন, “আমার স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে আমি ধন্য। আমাদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। আমার স্ত্রীকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আগামী দিনগুলো যেন সুখে-শান্তিতে কাটাতে পারি- সবার কাছে সেই দোয়া চাই।”


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর