জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট বিরাজ করছে। ফলে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। বর্তমানে পুরো হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স, একজন চালক ও একজন নৈশপ্রহরী দিয়ে, যেখানে প্রয়োজন অন্তত দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও চালক।
২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল বৃদ্ধি না পাওয়ায় এখনো ৩১ শয্যার কাঠামোতেই কার্যক্রম চলছে। ফলে বর্ধিত সেবা কার্যত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ছয়টি কনসালটেন্ট পদসহ মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, নার্স ও ফার্মাসিস্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার, পরিসংখ্যানবিদ ও অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন কারিগরি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে।
এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী, ওয়ার্ড বয়, আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ সহায়ক পদগুলোতেও বড় ধরনের শূন্যতা রয়েছে, যা হাসপাতালের সার্বিক সেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামও অচল হয়ে পড়েছে। প্রায় ১৮ বছর ধরে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি মেশিন ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতিরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে, যা রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের দিয়ে জরুরি বিভাগ পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।
হাসপাতালের অবকাঠামো রোগীবান্ধব নয় এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও রয়েছে ঘাটতি। দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এছাড়া বাজেট স্বল্পতা, বাজেট বণ্টনে জটিলতা, প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের অভাব এবং অবকাঠামো মেরামতে দীর্ঘসূত্রতা হাসপাতালের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘জনবল সংকটের মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।’
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, ‘জনবল ও যন্ত্রপাতির জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে শ্রীমঙ্গলের স্বাস্থ্যসেবা আরও সংকটের মুখে পড়বে।







