বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ায় মারামারি, আহত ৯
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বিয়েতে দাওয়াত না করায় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছেন। দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। থানায় নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছেন দু’জন।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সুখচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দুই পক্ষ থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সুখচর ও নলচিরা ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী সাহাব উদ্দিনের বড় ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়েতে স্থানীয় সুখচর ইউনিয়ন মাহমুদুল হক জামে মসজিদের ইমাম এবং কমিটিকে দাওয়াত করা হয়নি। এর প্রেক্ষিতে আজ সুখচর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নলচিরা ১ নং ওয়ার্ড নুর আহমদ ডাক্তার পুলের গোড়ায় একটি দোকানে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার হেলাল মাঝি সমালোচনা করতে থাকে। পরে সেখানে কনের চাচা (কৃষি উপসহকারী) সাহাব উদ্দিন বিতর্কে জড়ালে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।

এসময়, মসজিদ কমিটি পক্ষের- মো. ফরিদ (২৫), কোহিনুর (৪০), ফারুক (৩০), হেলাল মাঝি (৫৫) ও ইমতিয়াজ উদ্দিন এবং বিয়ে বাড়ির কৃষি উপসহকারী সাহাব উদ্দিন (৪০), তার স্ত্রী কুলসুম (৩০), তার ভাই মারজান ও মিজান আহত হয়।
এদের মধ্যে মো. ফরিদ ও কোহিনুরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে রেফার করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার হেলাল মাঝি ও ইমতিয়াজ বলেন, সাহাব উদ্দিনের ভাতিজির বিয়েতে সমাজের লোকজনকে মূল্যায়ন করেনি। হুজুরকেও দাওয়াত করেনি। তাই তারা দোকানে আলোচনা করেছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে সাহাব উদ্দিন তাদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ায় এবং তার পরিবারের লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। তারা আরও বলেন, সাহাব উদ্দিনের পরিবার আওয়ামী লীগের দোসর। নিজেদের ঘরবাড়ি কুপিয়ে তাদের ওপর দায় চাপিয়ে ৯৯৯ এ কল দেয়।

অপরদিকে, বিয়ে বাড়ির সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী কুলসুম বলেন, বৃহস্পতিবার তার ভাশুরের মেয়ের বিয়েতে ইমতিয়াজ ও তার লোকজনকে দাওয়াত না করায় ওইদিন বিয়েতে তারা ঝামেলা করেছিল। সেদিন ঝামেলা করে বিয়ে ভাঙতে পারেনি। আজ তার স্বামী সাহাব উদ্দিন বাজার থেকে আসার পথে ওরা এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। চিৎকার শুনে তিনি এবং তার দেবর-ভাশুররা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও মারপিট ও রক্তাক্ত জখম করে ইমতিয়াজের লোকজন। তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইনটাও ছিঁড়ে নিয়ে যায় তারা।

তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তারা হামলা করে। এমনকি থানায় সেফ জোনে থাকা অবস্থায়ও হামলার শিকার হন।
ঘটনা সামাল দেওয়া পুলিশ ফোর্সের সাব-ইন্সপেক্টর ও হাতিয়া থানা সেকেন্ড অফিসার মিনহাজ আহমেদ জানান, সাহাব উদ্দিন এবং তার ভাই মারজান থানায় সেফ জোনে আছে। দুই পক্ষের কেউ এখনও মামলা দায়ের করেনি। মামলা হলে থানা পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।







