শ্রীমঙ্গলে সাবানা হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
একটি সাধারণ ড্রেন ও জমির সামান্য অংশ রক্তের সম্পর্কের চেয়েও যা ভারী হয়ে উঠেছিল তাঁদের কাছে। যার নির্মম পরিণতিতে ঝরে গিয়েছিল বোন সাবানার প্রাণ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায় মেটাতে এবার ফাঁসির মঞ্চে যেতে হচ্ছে নিহত সাবানার দুই সৎ ভাইসহ চারজনকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নিহত সাবানার সৎ ভাই গিয়াস মিয়া ও দুলাল মিয়া এবং প্রতিবেশী দুই সহোদর নাসির মিয়া ও বিলাল মিয়া।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিরোধের সূত্রপাত ২০১৬ সালে শ্রীমঙ্গলের ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল গ্রামে। বাড়ির পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ নিয়ে সাবানাদের সঙ্গে বিরোধে জড়ায় সৎ ভাই ও প্রতিবেশীরা।
একপর্যায়ে ড্রেন নির্মাণে বাধা দিলে সাবানার ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে ক্ষতবিক্ষত সাবানাকে হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগটুকুও মেলেনি; অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই নিভে যায় তাঁর জীবনপ্রদীপ। মেয়ের ওপর হামলা ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন মা মায়া বেগমও।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে ৩০২ ধারায় আনা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চারজনকে সর্বোচ্চ সাজা দেন আদালত। একই রায়ে মা মায়া বেগমকে জখমের দায়ে মহিবুর রহমান অমৃতকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপর স্বজন সেলিনা বেগমকে মারধরের দায়ে জয়নাল মিয়াকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন পাঁচজন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আব্দুল মতিন বলেন, “সম্পত্তি আর ড্রেনের মতো অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিজের সৎ বোনকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এই রায়ের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার আদালত প্রাঙ্গণে নেমে আসে এক মিশ্র ও হৃদয়বিদারক আবহ। এক প্রান্তে দীর্ঘ লড়াই শেষে ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বস্তির কান্না কাঁদছিলেন সাবানার পরিবারের সদস্যরা, অন্য প্রান্তে আসামিপক্ষের স্বজনদের আর্তনাদ-আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। কড়া পুলিশ পাহারায় চার আসামিকে যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তখন স্বজনদের কান্নায় তৈরি হয় এক স্তব্ধ পরিবেশ যেখানে তুচ্ছ সম্পদের লোভ শেষ পর্যন্ত কেবলই সর্বনাশ আর স্বজন হারানোর হাহাকার উপহার দিল।







