মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কুলাউড়ায় ইউপি সদস্যসহ দুজনকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওরাছড়া চা বাগানে ৬ সপ্তাহ ধরে বন্ধ মজুরি, চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ কমলগঞ্জে সিএনজি গ্রুপ কমিটির নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থী তারেক মিয়ার মতবিনিময় সভা মনিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সভাপতি চাঁদ মুরারী, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ এক দশকেও দৃশ্যমান হয়নি শ্রীমঙ্গল মডেল মসজিদ শ্রীমঙ্গলে ধানক্ষেত থেকে অজগর উদ্ধার রেলপথ পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসনের অভিযান; এক্সক্যাভেটরসহ বিপুল সরঞ্জাম জব্দ নবারুণ সংঘের পক্ষ থেকে এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা করা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে কমলগঞ্জে গণবিক্ষোভ

দেওরাছড়া চা বাগানে ৬ সপ্তাহ ধরে বন্ধ মজুরি, চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

হালচাল ডেস্ক / ২২ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬



টানা ছয় সপ্তাহ ধরে সাপ্তাহিক মজুরি (তলব) বন্ধ থাকার প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা বাগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাওনা মজুরির দাবিতে সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে দিনব্যাপী চা কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বাগানটির শত শত ক্ষুব্ধ শ্রমিক।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চা-শ্রমিকরা জানান, গত দেড় মাস ধরে মজুরি না পাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দামের কারণে ঘরে চাল-ডাল কেনার মতো টাকাও তাদের কাছে নেই। জীবনধারণের মৌলিক তাগিদে বাধ্য হয়ে অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন। মজুরি না মেলায় একদিকে পাওনাদারদের চাপ, অন্যদিকে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে না পেরে শ্রমিকদের পিঠ এখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা আফসোস প্রকাশ করে বলেন, “বাইরে থেকে আমাদের চা-শ্রমিকদের জীবন দেখতে ফ্রেমে বাঁধাই করা ছবির মতো সুন্দর মনে হলেও, বাস্তবে আমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এক অদৃশ্য ‘দাসত্বের শিকলে’ বন্দি হয়ে আছি।” তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া সব পাওনা পরিশোধের জোর দাবি জানান।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে রহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, “শ্রমিকরা চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি। দ্রুত সমাধান না হলে তারা আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ চা-শ্রমিকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি মানবিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।”

মজুরির সংকট ও শ্রমিকদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করে দেওড়াছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “চা বোর্ডের সাথে বাগান কর্তৃপক্ষের কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয়ের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুত সমস্যাটি সমাধান করার চেষ্টা করছি। শ্রমিকদের পাওনা মজুরি যেন অতিসত্বর পরিশোধ করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তবে আশ্বাস নয়, অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধের বাস্তব পদক্ষেপ না দেখলে রাজপথ ছাড়বেন না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত চা-শ্রমিকরা।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর