বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মৌলভীবাজারে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত: ৭ মামলায় জরিমানা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন করে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে-ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কমলগঞ্জে পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ শুরু মৌলভীবাজারে পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার ‘ক্যাম্প প্রশিক্ষণ’ অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত কমলগঞ্জে নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপনে পুলিশের মতবিনিময় সভা মৌলভীবাজারে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পেলেন ৫ গুণীজন কমলগঞ্জে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়ম; তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা কমলগঞ্জে ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন গরু চুরি নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগ করলেন এনসিপি নেতা সামায়েল

দেওরাছড়া চা বাগানে ৬ সপ্তাহ ধরে বন্ধ মজুরি, চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

হালচাল ডেস্ক / ৪২ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬



টানা ছয় সপ্তাহ ধরে সাপ্তাহিক মজুরি (তলব) বন্ধ থাকার প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা বাগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাওনা মজুরির দাবিতে সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে দিনব্যাপী চা কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বাগানটির শত শত ক্ষুব্ধ শ্রমিক।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চা-শ্রমিকরা জানান, গত দেড় মাস ধরে মজুরি না পাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দামের কারণে ঘরে চাল-ডাল কেনার মতো টাকাও তাদের কাছে নেই। জীবনধারণের মৌলিক তাগিদে বাধ্য হয়ে অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন। মজুরি না মেলায় একদিকে পাওনাদারদের চাপ, অন্যদিকে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে না পেরে শ্রমিকদের পিঠ এখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা আফসোস প্রকাশ করে বলেন, “বাইরে থেকে আমাদের চা-শ্রমিকদের জীবন দেখতে ফ্রেমে বাঁধাই করা ছবির মতো সুন্দর মনে হলেও, বাস্তবে আমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এক অদৃশ্য ‘দাসত্বের শিকলে’ বন্দি হয়ে আছি।” তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া সব পাওনা পরিশোধের জোর দাবি জানান।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে রহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, “শ্রমিকরা চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি। দ্রুত সমাধান না হলে তারা আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ চা-শ্রমিকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি মানবিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।”

মজুরির সংকট ও শ্রমিকদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করে দেওড়াছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “চা বোর্ডের সাথে বাগান কর্তৃপক্ষের কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয়ের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুত সমস্যাটি সমাধান করার চেষ্টা করছি। শ্রমিকদের পাওনা মজুরি যেন অতিসত্বর পরিশোধ করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তবে আশ্বাস নয়, অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধের বাস্তব পদক্ষেপ না দেখলে রাজপথ ছাড়বেন না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত চা-শ্রমিকরা।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর