শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা; ঝড়ো বতাসে প্যান্ডেল ভাঙলেও চা শ্রমিকদের আবেগের জোয়ার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে আকস্মিক বাতাসে একটি প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং মূল মঞ্চটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।
আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে মাঠের ভেতর উপকারভোগী ও অতিথিদের বসার জন্য প্যান্ডেলটি নির্মাণ করা হয়েছিল। আকস্মিক বাতাসে প্যান্ডেলটি ভেঙে পড়লে ভেতরে থাকা অতিথিদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ও ছোটাছুটি সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেঙে পড়া প্যান্ডেলটি দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।
প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটলেও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থলে মানুষের জনস্রোত থামেনি। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক চা শ্রমিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আজ জেলার সব চা বাগান ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাগানের গাড়ি ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সকাল থেকেই সভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকরা।
জনসভায় আসা চা শ্রমিক পূর্ণিমা রেলি ও জাদব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আমাদের বাগান ছুটি দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই প্রিয়নেতাকে একনজর দেখার জন্য এসেছি। চায়ের দেশে তিনি এসেছেন, এটা আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা তাঁর কাছে আমাদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সফর সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য ও চিকিৎসাধীন রোগীদের মাঝে সহায়তার চেক হস্তান্তর করবেন। অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিতে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সিলেট থেকে সড়ক পথে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সমগ্র মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট-শ্রীমঙ্গল সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।







