গাছের বুকে বিঁধে থাকা পেরেক অপসারণে কমলগঞ্জে অনন্য উদ্যোগ
রাস্তার ধারের ছায়াদানকারী সবুজ বৃক্ষগুলো প্রতিনিয়তই ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বাণিজ্যিক আর প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনের নির্মম আঘাতে। কোচিং সেন্টার, রাজনৈতিক প্রচারণা কিংবা চিকিৎসকের চটকদার বিজ্ঞাপন ঝোলাতে গাছে ঠুকে দেওয়া হচ্ছে শত শত লোহার পেরেক। বোবা এই বৃক্ষের নীরব যন্ত্রণা লাঘবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবার এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে।
গাছের শরীর থেকে পেরেক ও সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলতে মাঠে নেমেছেন কমলগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী সৈয়দ জামাল হোসেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে কমলগঞ্জ উপজেলা-মুন্সীবাজার সড়কের পাশের গাছগুলো থেকে পেরেক ও বিজ্ঞাপনী বোর্ড অপসারণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের সূচনা করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় একদল সচেতন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তার সঙ্গে অংশ নেন।
উদ্যোগ সম্পর্কে সৈয়দ জামাল হোসেন বলেন, গাছ আমাদের পরম বন্ধু; এটি নিঃস্বার্থভাবে অক্সিজেন দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। গাছের গায়ে পেরেক ঠুকলে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে সেখানে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। এতে গাছের বৃদ্ধি নষ্ট হয়, ডালপালা শুকিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে গাছ মারাও যেতে পারে। প্রকৃতির সুরক্ষায় আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।
তিনি জানান, মুন্সীবাজার সড়ক দিয়ে শুরু হওয়া এই পেরেক অপসারণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কমলগঞ্জ পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচালনা করা হবে। একই সাথে তিনি কোনো গাছে নতুন করে পেরেক না মারার জন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মাঝেও এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান বলেন, যত্রতত্র বিজ্ঞাপনের কারণে সবুজ গাছগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। গাছে পেরেক ঠোকা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আরেক বাসিন্দা হামিদুর রহমান ক্ষোভ ও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গাছের ছায়া ও অক্সিজেন আমরা প্রতিদিন ভোগ করি, অথচ এর জীবন রক্ষায় আমরা উদাসীন। জামাল হোসেনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। পুরো পৌরসভাজুড়ে এই অভিযান অব্যাহত রাখা উচিত।
বৃক্ষ রক্ষায় এমন উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমী মহল।







