রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কমলগঞ্জে চৈত্রঘাট-দেওড়াচড়া সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে পর্যটন সম্পদে রূপান্তর করা হবে : পর্যটনমন্ত্রী সিলেটকে পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: পর্যটন মন্ত্রী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মিলনমেলায় শুরু হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিলেটে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী পর্তুগালের গোল দরকার, রোনালদোকে নয়: অঁরি শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ পাইলট হয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার পথে কমলগঞ্জের মাহির মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পর সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে পর্যটন সম্পদে রূপান্তর করা হবে : পর্যটনমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৫ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। একই সঙ্গে কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম, ইকো-ট্যুরিজম এবং টেকসই পর্যটনের প্রসারে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি শুধু প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পর্যটন সম্পদে রূপান্তরিত হবে।

শুক্রবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শ্রীমঙ্গল শুধু চায়ের রাজধানী নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অঞ্চল। এখানে এবং এর আশপাশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও জীবনধারা জাতীয় সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ ও বর্ণিল করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ একদিন আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হবে। এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; বরং সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য মিলনমেলা। এবারের উৎসবে দেশের ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করছে, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য উপস্থাপনা।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সব মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নেই। সব জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়ন এবং তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যেই নিহিত।

আগামী বছর শীত মৌসুমে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ আরও বৃহৎ, নান্দনিক ও আকর্ষণীয় পরিসরে আয়োজনের আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এতে দেশ-বিদেশের আরও বেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মোল্লা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, উপপরিচালক মুহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহিবুল্লাহ আকনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং অতিথিদের সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

উল্লেখ্য, দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয়বারের মতো ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ উৎসব আগামী ২১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর