সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ট্রেনের ছাদ থেকে যাত্রীকে ফেলে দিল দুর্বৃত্তরা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার ধলাইয়ের বুকে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুর, মাছ শিকারের উল্লাসে শতবর্ষী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব আগামীকাল নিজ জেলা মৌলভীবাজারে আসছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কমলগঞ্জে পূজোর ছুটিতে পর্যটকদের ঢল আসামে ১১ শতাধিক বাংলাভাষী মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভাঙা হলো মসজিদ স্বর্ণের দামে বড় পতন ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুই নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সম্প্রীতির মেলবন্ধনে মৌলভীবাজারে মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর বড়লেখায় আলোচিত চুরির রহস্য উদঘাটন; চোরাই স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ৬ কমলগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মিনি ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

দুই শত বছরের ঐতিহ্যে ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে চড়ক পূজা: লোকজ আচার আর মেলায় উৎসবের ঢল

ডেস্ক রিপোর্ট / ১১০ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

চৈত্রের শেষ বিকেলের রোদ যখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে, তখনই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরি দিঘীর পাড়। প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো চড়ক পূজা আর গ্রামীণ মেলাকে ঘিরে এ জনপদ তখন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়—ধর্ম, সংস্কৃতি আর লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য সমাহারে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসব সকাল থেকেই টেনে আনে হাজারো মানুষকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়ে দিঘীর চারপাশ যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। কেবল স্থানীয় মানুষ নয়, দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও ছুটে আসেন এই বিরল আয়োজন প্রত্যক্ষ করতে।

উৎসবের প্রাণ ছিল চিরাচরিত তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান। চারপাশে ঢাকের শব্দ, ধূপের গন্ধ আর ভক্তদের উচ্চারণে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল চড়ক গাছে সন্ন্যাসীদের ঘোরানো—পিঠে বড়শি গেঁথে আকাশে ঝুলে থাকা সেই দৃশ্য দর্শকদের শিহরিত করে। একই সঙ্গে জ্বলন্ত আগুনের ওপর ‘কালীনাচ’ এবং ধারালো দায়ের ওপর ‘শিব শয্যা’—এসব রোমাঞ্চকর আচার যেন লোকবিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার এক নাটকীয় প্রকাশ।

জানা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ব্রত পালন শেষে ৪০ থেকে ৫০ জন সন্ন্যাসী এই দিনে তাদের কৃচ্ছ্রসাধনের সমাপ্তি ঘটান। দিঘীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে স্থাপিত চারটি চড়ক গাছকে কেন্দ্র করে চলে পূজা ও আচার। ভক্তরা ফুল, দুধ ও চিনি নিবেদন করে পূজা দেন, প্রার্থনা করেন মঙ্গল ও কল্যাণের।

পূজার পাশাপাশি বসে বৃহৎ গ্রামীণ মেলা, যা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। নাগরদোলার ঘূর্ণন, শিশুদের উচ্ছ্বাস, আর মাটির তৈজসপত্র ও বাঁশ-বেতের পণ্যের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়—সব মিলিয়ে এক চিরচেনা গ্রামীণ বাংলার ছবি। খৈ-বাতাসার দোকানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।

চড়ক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী বলেন, ‘এই আয়োজন এখন শুধু ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে এই উৎসবকে করে তোলেন সবার।’

উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল পুলিশ, র‌্যাব এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও মেলা পরিদর্শন করেন এবং পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপনী হবে বুধবার (১৫ এপ্রিল)। একই সময়ে কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগান মাঠেও অনুষ্ঠিত হয়েছে চড়ক পূজা ও মেলা। উভয় আয়োজনেই হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে তৈরি হয়েছে এক আনন্দঘন, উৎসবমুখর পরিবেশ।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর