শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কমলগঞ্জে মবশ্বির আলী চৌধুরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভা, শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলড্রেস ও গাছের চারা বিতরণ কমলগঞ্জে শিক্ষার্থীর মৃ/ত্যু; বিচার নিশ্চিত করতে মানববন্ধন কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে ভেলকিবাজির উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা কমলগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার হওয়া অজগর লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠল সিলেট হাম উপসর্গে সিলেটে আরও এক শিশুর মৃত্যু হামহাম জলপ্রপাত রোমাঞ্চ প্রিয়দের হাতছানি দিচ্ছে কুরমার গহীন অরণ্য লাউয়াছড়া উদ্যানের গাছ পাচারের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র

শোষণমুক্ত অর্থনীতির লক্ষ্যে ড. অপু আবুল হাসানের নতুন ‘৫-এস মডেল’

ডেস্ক রিপোর্ট / ৫৭ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

আধুনিক বিশ্বের জটিল অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে একটি নতুন ইসলামিক অর্থনৈতিক কাঠামো প্রস্তাব করেছেন অর্থনীতিবিদ ডক্টর অপু আবুল হাসান। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ মডেলের পর এবার আন্তর্জাতিক মানের ব্যতিক্রমধর্মী একটি মডেল হিসেবে তিনি উপস্থাপন করেছেন ‘৫-এস মডেল’।

ড. অপুর প্রস্তাবিত এই মডেলটি মূলত সাম্য, সমৃদ্ধি ও বরকতের সমন্বয়ে গঠিত। মডেলটি পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে—শুকুক, শারকাহ, শ্রম, সামান এবং সার্ভিস। এর মূল দর্শন হলো: পুঁজি আমানত, শ্রম ইবাদত এবং লাভের অংশীদারিত্ব।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মডেলটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে কমলগঞ্জের মতো অঞ্চলে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হতে পারে।

মডেলটির প্রথম স্তম্ভ ‘শুকুক’, যা পুঁজি সংগ্রহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা হয়, যার মুনাফা স্থানীয় জনগণের মধ্যেই বণ্টিত হয়।

দ্বিতীয় স্তম্ভ ‘শারকাহ’ বা অংশীদারিত্ব। এই ব্যবস্থায় জামানত ছাড়াই মেধাবী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং শূন্য বেকারত্ব অর্জনের পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

তৃতীয় স্তম্ভ ‘শ্রম’ বা মুদারাবা পদ্ধতিতে যাদের পুঁজি নেই কিন্তু দক্ষতা আছে, তাদের শ্রমকে মূল সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চতুর্থ স্তম্ভ ‘সামান’-এর মাধ্যমে নগদ ঋণের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা পণ্য সরবরাহ করা হয়, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

মডেলটির সর্বশেষ স্তম্ভ ‘সার্ভিস’। এর আওতায় ভারী যন্ত্রপাতি বা আধুনিক প্রযুক্তি লিজের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে তারা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন।

প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে এই মডেলের একটি বড় পার্থক্য হলো এটি সম্পূর্ণ সম্পদভিত্তিক এবং মানবিক অর্থনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে ঋণের দায়ে কাউকে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হয় না। ব্যবসায় লোকসান হলে ‘তাকাফুল’ বা সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের পুনরায় দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫-এস মডেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

ড. অপু আবুল হাসানের এই উদ্ভাবনী অর্থনৈতিক চিন্তা কেবল দারিদ্র্য বিমোচনেই সহায়ক হবে না; বরং এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের একটি নতুন মানদণ্ডও স্থাপন করতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর