বিমানবন্দরে আগুন ‘পরিকল্পিত নীলনকশার’ অংশ: ডিসিএএ
ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডকে নাশকতা বা পরিকল্পিত নীলনকশা বলে মনে করছে ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তারা এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সংগঠনটি বলছে, এই অগ্নিকাণ্ড দেশের শিল্পকারখানা, আমদানি-রফতানি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বিপর্যস্ত করে জাতীয় অর্থনীতিকে অচল করার একটি ‘পরিকল্পিত নীলনকশার’ অংশ হতে পারে।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শনিবারের আগুনে বিমানবন্দরের আমদানি পণ্যের গুদাম ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস যথাসময়ে পৌঁছাতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে।’
সভাপতি জানান, বর্তমানে গুদামটি সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় রয়েছে। সংস্কার ছাড়া সেখানে আমদানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়। এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে পঙ্গু করার অপচেষ্টা হতে পারে।
এ ঘটনায় সরকারের প্রতি পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবিগুলো হলো— ১. ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন; ২. তদন্তে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; ৩. বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অগ্নিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করে আধুনিকায়ন; ৪. ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ; ৫. নির্মাণাধীন নতুন গুদাম অস্থায়ীভাবে চালু করে আমদানি কার্যক্রম সচল রাখা।
সংগঠনটি জানায়, এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে দেশের অর্থনীতিকে অচল করার কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না—তা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
গতকাল শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন। প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার কারণে বিমানবন্দরে সাত ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকে। পরে রাত ৯টার দিকে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হয়। আজ রোববার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আগুন নির্বাপন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।







