বড়লেখায় জিন্নী হুজুর পরিচয়ে প্রতারণা: গ্রেফতার ৪
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার আশ্বাস দিয়ে ‘জিন্নী হুজুরে’র মাধ্যমে এক নারীর প্রায় ১২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে আত্মসাৎ হওয়া ৫ ভরি ৬ আনা ওজনের সব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমের মোবাইলে অজ্ঞাতনামা এক নারী ফোন করেন। ফোনে জানানো হয়, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন এক ‘জিন্নী হুজুর’ পুরোপুরি সুস্থ করে দেবেন। তবে বিষয়টি গোপন রাখতে হবে; প্রকাশ করলে ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথামতো রোকেয়া বেগম বসতঘরের পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর গিয়ে দেখেন গহনাগুলো উধাও।
ভুক্তভোগী ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন এবং এক মাসের মধ্যে ছেলে সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি সব গহনা ফেরত দেওয়া হবে। এর কিছুদিন পর, গত ১৬ অক্টোবর একই কায়দায় পুনরায় ফোন করে আরও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়। এবার গহনা না দিলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং দিলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের সব গহনা ফেরত মিলবে বলে ব্ল্যাকমেল করা হয়। সন্তানের অমঙ্গলের আশঙ্কায় দ্বিতীয় দফায়ও গহনা রেখে আসেন ওই নারী, যা একইভাবে খোয়া যায়।
এভাবে দুই দফায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয় চক্রটি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা। বিষয়টি নিয়ে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হলে ভুক্তভোগী বড়লেখা থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন।
অভিযোগের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস ও এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে নামে। গত ১ নভেম্বর বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে আত্মসাৎ করা ১টি সীতাহার, ২ জোড়া ঝুমকা ও ১টি আংটিসহ সম্পূর্ণ স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত গহনাগুলো ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম শনাক্ত করেছেন।
বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ওবায়দুল হক বলেন, গ্রেফতারকৃত চার প্রতারক চক্রের সদস্যকে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।







