সংস্কারের এক মাস না যেতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা পতনঊষার-তারাপাশা সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার এক মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে উঠে যেতে শুরু করেছে। উপজেলার পালপুর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যানবাহনচালকেরা। সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও যথাযথ তদারকির অভাবের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় গত ৬ আগস্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, সংস্কারকাজ শুরুর সময় থেকেই নিম্নমানের বিটুমিন, পাথর ও ইটের খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি নজরে আসে। কিন্তু অভিযোগ আমলে না নেওয়ায় কাজ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, পতনঊষার-তারাপাশা সড়কের এয়ারপোর্ট-তারাপাশা অংশের মেরামতের জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইফুল এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চে সংস্কারকাজ শুরু করে এবং জুলাইয়ে কাজ শেষ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের পরপরই সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে। বর্তমানে পালপুর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
পতনঊষার বাজারের ব্যবসায়ী মামুন মিয়া বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে। সংস্কারের পরও সড়কটি আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা তানিভীর আহমদ বলেন, ‘কাজের মান নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ করা হলেও কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এখন কার্পেটিং উঠে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।’
পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, ‘সড়কটির সংস্কারকাজের মান নিয়ে তিনি উপজেলা মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। পূর্ণাঙ্গ মেরামত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ না করার জন্যও তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।’
তবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কমলগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল আজম। তিনি বলেন, ‘কাজটি ম্যানুয়ালি করায় বিটুমিন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে তা গলে গিয়ে বৃষ্টির পানিতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজ শেষ হলেও ঠিকাদার দায়মুক্ত নন। এক বছরের সিকিউরিটি পিরিয়ড রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে ঠিকাদারকেই তা মেরামত করতে হবে।’
এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইফুল এন্টারপ্রাইজের কন্ট্রাক্টর সুয়েলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নাম অস্বীকার করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কটি দ্রুত টেকসইভাবে মেরামতের পাশাপাশি কাজের মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজে যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।







