শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসনের অভিযান; এক্সক্যাভেটরসহ বিপুল সরঞ্জাম জব্দ নবারুণ সংঘের পক্ষ থেকে এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা করা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে কমলগঞ্জে গণবিক্ষোভ কমলগঞ্জে তরুণীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার হবিগঞ্জ থেকে ফিরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এনসিপি নেতারা শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের পথে এনসিপির বহর কমলগঞ্জে পুলিশের অভিযানে পরিত্যাক্ত স্থান থেকে পাইপগান উদ্ধার কমলগঞ্জে বন বিভাগ-বিজিবির যৌথ অভিযানে প্রায় ২৭ ঘনফুট সেগুন কাঠ জব্দ কমলগঞ্জে বন বিভাগ-বিজিবির যৌথ অভিযানে প্রায় ২৭ ঘনফুট সেগুন কাঠ জব্দ ফুলবাড়ি চা বাগান থেকে ১৭ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার

কমলগঞ্জে শিক্ষার্থীর মৃ/ত্যু; বিচার নিশ্চিত করতে মানববন্ধন

সালাহউদ্দিন শুভ / ৮৭ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মীম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনার প্রায় ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে নিহতের পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তনিমা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বখাটে সানোয়ার মিয়া মীমকে স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করত। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ব্ল্যাকমেইল ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এসব নির্যাতনের কারণে মীম আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। আমরা তার মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সুবহান বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ ঘটনার পর অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিদ্যালয়ের উপস্থিতিতেও পড়েছে।’

নিহত মীম আক্তারের বাবা মনির মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাই। একজন অসহায় বাবা হিসেবে ন্যায়বিচারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। এখনো কেন আসামিকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য নয়।’

নিহত স্কুল ছাত্রীর চাচা ও মামলার বাদী মো. আরিফ মিয়া বলেন, ‘সানোয়ারের পরিবারকে বারবার জানিয়েও আমরা বিচার পাইনি। উল্টো তারা ভয়ভীতি দেখিয়েছে। মৃত্যুর আগে মীম নিজে সানোয়ারের ব্ল্যাকমেইল ও আত্মহত্যার প্ররোচনার কথা বলে গেছে। আমরা এই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘একটি কোমলমতি শিক্ষার্থীর মৃত্যু কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা গেলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, ‘মীম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় কাজ করছে পুলিশ। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রামের মীম আক্তার (১৫) স্থানীয় এক বখাটের মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে বিষপান করেন বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে এক সপ্তাহ লড়াই করে গত ২২ মে রাতে তিনি মারা যান।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর