মৌলভীবাজারে সোয়াবিন তেল কারখানায় যৌথবাহিনীর অভিযান
মৌলভীবাজার বিসিক শিল্পনগরীতে ভেজাল মিশ্রণ ও ওজনে কারচুপির দায়ে একটি সোয়াবিন তেল কারখানাকে জরিমানা করেছে যৌথবাহিনী।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডিং করা তেল বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করে মজুতকৃত সব তেল খোলা বাজারে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মেসার্স লক্ষ্মী এডিবল প্রোডাক্ট লিমিটেড নামক ওই কারখানায় এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়, দীর্ঘ ২ বছর ২ মাস ধরে বিএসটিআই-এর লাইসেন্স নবায়ন না করেই উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি। কারখানায় উৎপাদিত ৫ লিটার থেকে শুরু করে হাফ লিটারের বোতলগুলোতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল পাওয়া যায় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ সয়াবিন তেলের সঙ্গে পাম অয়েলের মিশ্রণ ঘটিয়ে তারা বাজারজাত করছিল।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৫, ৪৬ ও ৪৮ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কারখানার মালিকের প্রতিনিধি পুলন চন্দ্র দাসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রইচ আল রেজুয়ান। তাৎক্ষণিক জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে প্রথমে হেফাজতে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট মো. রইচ আল রেজুয়ান জানান, অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘জয়া’ ও ‘মোহনা’ নামে প্যাকেটজাত তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারখানায় বর্তমানে যা মজুত আছে, তা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে খোলা বাজারে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান খান জানান, ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার তানভীরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিসিক এলাকার এই অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।







