শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ু বহিষ্কার শ্রীমঙ্গলে সাবানা হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড টাকা ছাড় দেন না ডিএফও: সিপিজি সদস্যদের ৫ মাসের বেতন বকেয়া মাও সে তুংকে নিয়ে রসিকতা, এমবাপ্পের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চাইল রিয়াল ইরানে স্বর্ণপামজয়ী নির্মাতাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের আগের দিন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শ্রীমঙ্গলে ধুলাবালি থেকে স্বস্তি দিতে সড়কে পৌরসভার পানি ছিটানোর উদ্যোগ ধলই সীমান্তে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ কমলগঞ্জে এক রাতে মসজিদের দানবাক্সসহ ৭ দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি

প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে নিজের শিশুকন্যাকে হত্যা, ১২ বছর পর বাবার মৃত্যুদণ্ড

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: / ৩৯ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

প্রতিবেশীকে মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জমি বিরোধের প্রতিশোধ নিতে নিজের সাড়ে তিন বছরের কন্যাশিশুকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শরীফ আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চলা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আদালত শরীফ আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভানুবিল গ্রামে নিজ বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু রুনা বেগমকে ধারালো দা দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত রুনার জন্মদাতা বাবা শরীফ আলীই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, শরীফ আলীর সঙ্গে তাঁর চাচাত ভাই ও প্রতিবেশীদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিবেশী সালেক মিয়াকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নিজের শিশুকন্যাকে হত্যা করে হত্যাকাণ্ডের দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করেন।

তবে তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসে। পরে শরীফ আলীর স্ত্রী ও নিহত শিশুর মা নেকজান বিবি বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীর বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডে শরীফ আলীর সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে নিজের কন্যাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন তিনি।

দণ্ডপ্রাপ্ত শরীফ আলী কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভানুবিল গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপনের পর আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন। ঘটনার প্রায় ১২ বছর পর নিজের সন্তান হত্যার দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ডের এ রায় ঘোষণা করা হলো।

নিজের স্বার্থে এবং প্রতিবেশীকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এক বাবার হাতে ঘুমন্ত শিশুকন্যা হত্যার এই ঘটনা কমলগঞ্জজুড়ে সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালতের রায়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের অবসান হলো।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর