শ্রীমঙ্গলে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৯ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে রাকিবুল হাসান মিরাজ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সিন্দুরখান রোড এলাকায় অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে মিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার সুইনগড় গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে।
পুলিশের মতে, শিশুটির অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। সর্বশেষ রোববার সকালে শিক্ষকের কথামতো চলতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার সকালে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৩৩।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও অভিযোগ যাচাই করা হবে।’
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি অভিযোগের বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগসহ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি ওই মাদ্রাসায় নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোমবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জামিয়া ইসলামিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ সুমামা মুঠোফোনে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি মাদ্রাসার নিয়মিত শিক্ষক নন। তিনি সেখানে ‘পাঠটাইমের’ শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতেন। তিনি বলেন, ভালোভাবে পাঠদান করতে পারলে পরবর্তীতে তাঁকে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করা হতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বয়সও প্রায় ২০ বছর বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মাদ্রাসার অফিসিয়াল মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফোনে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিবেদককে সরাসরি মাদ্রাসায় গিয়ে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে একই নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের এ অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।







