শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
আগামীকাল নিজ জেলা মৌলভীবাজারে আসছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কমলগঞ্জে পূজোর ছুটিতে পর্যটকদের ঢল আসামে ১১ শতাধিক বাংলাভাষী মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভাঙা হলো মসজিদ স্বর্ণের দামে বড় পতন ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুই নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সম্প্রীতির মেলবন্ধনে মৌলভীবাজারে মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর বড়লেখায় আলোচিত চুরির রহস্য উদঘাটন; চোরাই স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ৬ কমলগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মিনি ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কমলগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দুই সংসারের বিরোধ, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

একই দিনে তিন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: / ৬২ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একই দিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার নোয়াগাঁও শাইঠুলা প্রজেক্ট-২ এলাকার একটি ফিশারি থেকে একটি দাঁড়াশ সাপ, রুপসপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে একটি তক্ষক এবং উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি এলাকা থেকে একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা তিনটি প্রাণীই অক্ষত অবস্থায় শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপসহ সংশ্লিষ্টরা এসব প্রাণী উদ্ধারে অংশ নেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াগাঁও শাইঠুলা প্রজেক্ট-২ এলাকার একটি ফিশারিতে মাছ ধরার জন্য পাতা জালে একটি সাপ আটকা পড়ে। আগের রাতে পাতা জালটি শনিবার দুপুরে তুলতে গিয়ে প্রকল্পের ম্যানেজার সাপটিকে দেখতে পান। তিনি সাপটিকে না মেরে বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান।

খবর পেয়ে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা সাপটিকে দাঁড়াশ হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় জাল কেটে সাপটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

দীর্ঘ সময় জালে আটকা থাকায় সাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার রুপসপুর এলাকায় রুপন পালের বাড়ির ঠাকুরঘরে একটি তক্ষক ঢুকে পড়ে। তক্ষকটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে রুপন পাল বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান।

খবর পেয়ে স্বপন দেব সজল ও রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তক্ষকটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সেটিও শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন দুপুর ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি এলাকায় বলাই রবিদাসের বাড়ির পাশে একটি গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় একটি লজ্জাবতী বানর মাটিতে নেমে আসে। বানরটিকে দেখতে পেয়ে সেখানে থাকা শিশুরা চিৎকার শুরু করে।

এ সময় দুলাল রবিদাস বানরটিকে ধরে আটকে রাখেন। পরে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে বানরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সেটিকেও শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

একই দিনে শ্রীমঙ্গলের পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বনাঞ্চলসংলগ্ন লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসা কিংবা মাছ ধরার জালে প্রাণী আটকা পড়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। এসব ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হয়ে প্রাণীকে হত্যা বা আঘাত না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘বন্যপ্রাণী মানুষের বসতবাড়ি বা লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আঘাত করা উচিত নয়। প্রাণীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের খবর দিলে সেটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে। ফলে মাঝে মাঝে খাদ্য, আশ্রয় বা চলাচলের পথে এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণই বন্যপ্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় মানুষের এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে লোকালয়ে চলে আসা প্রাণীদের নিরাপদে উদ্ধার ও তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর