কমলগঞ্জে ছড়ার পানিতে ভেসে উঠল চা শ্রমিকের মরদেহ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের পরদিন এক চা শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পূর্ব লঙ্গুরপাড় এলাকার একটি ছড়া (পাহাড়ি খাল) থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মূলচান করুয়া (৩৫) উপজেলার ফুলবাড়ী চা বাগানের সুদন করুয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন চা শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় চা শ্রমিকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২১ জুন) দুপুরে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাগানসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় যান মূলচান করুয়া। কিন্তু দিন শেষে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি। এতে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় বাগানের বিভিন্ন স্থানে রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
আজ সোমবার সকালে পূর্ব লঙ্গুরপাড় এলাকার একটি ব্রিজের নিচে ছড়ার পানিতে একটি মরদেহ আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয় পথচারীরা। খবর পেয়ে নিখোঁজ মূলচানের স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মরদেহটি নিখোঁজ মূলচান করুয়ার বলে শনাক্ত করেন।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার এসআই আল আসাদ মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন ধারনা করা যাচ্ছে পাহাড়ি এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে বা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনি ছড়ার পানিতে পড়ে যান এবং আর উঠতে পারেননি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
পূর্ব লঙ্গুরপাড় ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ফুলবাড়ী চা বাগানের নিখোঁজ শ্রমিকের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।







