মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ – কমলগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত কুলাউড়ায় পানগাছ কাটার প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে মানববন্ধন, স্মারকলিপি ধলাই নদীতে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা কমলগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপিত; বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান খাবারের আগে অলিভ অয়েল খেলে রক্তে শর্করা বাড়ে ধীরে, বলছে গবেষণা শ্রীমঙ্গলের স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি ​শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবের সমাপ্তি, ৭ ‘বেস্ট রিডার’কে ল্যাপটপ প্রদান কমলগঞ্জে ভারতীয় মদসহ দুই যুবক আটক মৌলভীবাজারে ৯ হাজার পানগাছ ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জি পরিদর্শনে পুলিশ শ্রীমঙ্গলে তরুণীকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ: জনরোষে পরিমল পাল

মজুরি ও রেশন বন্ধের প্রতিবাদে দেওরাছড়া চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট / ১০৮ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দেওরাছড়া চা বাগানে গত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে মজুরি ও রেশন বন্ধ থাকার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাগান এলাকা। বকেয়া পাওনার দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বাগানের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েক শতাধিক শ্রমিক। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, গত ৩ সপ্তাহ ৪ দিন ধরে তাদের কোনো মজুরি (তলব) ও রেশন প্রদান করা হচ্ছে না। নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে মজুরি বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক। বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় তারা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

দেওরাছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কুর্মী বলেন, দীর্ঘ প্রায় চার সপ্তাহ ধরে আমাদের পেটে ভাত নেই। রেশন ও মজুরি বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা এখন দিশেহারা। আমরা গত ১২ এপ্রিল শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছিলাম, কিন্তু ৫ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো সমাধান আসেনি। তাই বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা আজ অফিস গেটে তালা দিয়েছে।

রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার জানান, কিছুদিন আগে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিকদের বিরোধ তৈরি হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই বাগান ম্যানেজমেন্ট মজুরি ও রেশন বন্ধ রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, দেওরাছড়া চা বাগান ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম নিরাপত্তার অভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু শ্রমিক উশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে তাকে বাগান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন ব্যবস্থাপকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগান পঞ্চায়েত অপারগতা প্রকাশ করায় মজুরি ও রেশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। প্রতি বৃহস্পতিবার চাহিদাপত্র পাঠালে পরবর্তী বুধবার মজুরি ও রেশন আসে। পঞ্চায়েতদের এ বিষয় নিশ্চিত করলে মজুরি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাগান পরিদর্শন করছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, শ্রমিকদের না খেয়ে থাকার বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। আমরা বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে দ্রুততম সময়ে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও রেশন বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাগানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর