রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
খাবারের আগে অলিভ অয়েল খেলে রক্তে শর্করা বাড়ে ধীরে, বলছে গবেষণা শ্রীমঙ্গলের স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি ​শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবের সমাপ্তি, ৭ ‘বেস্ট রিডার’কে ল্যাপটপ প্রদান কমলগঞ্জে ভারতীয় মদসহ দুই যুবক আটক মৌলভীবাজারে ৯ হাজার পানগাছ ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জি পরিদর্শনে পুলিশ শ্রীমঙ্গলে তরুণীকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ: জনরোষে পরিমল পাল মেয়ের শ্বশুরবাড়ির বিরোধ মেটাতে গিয়ে প্রাণ গেল বাবার দুর্গোৎসবে সম্প্রীতির বার্তা মুঈদ আশিক চিশতীর, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকতে চান মানুষের মৌলভীবাজারে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জেলা পুলিশের মতবিনিময় কমলগঞ্জে ১৬ চা-শ্রমিক পরিবারের মাঝে মডেল ঘরের চাবি হস্তান্তর

কমলগঞ্জে ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় শুরু মণিপুরি ‘লাই হারাওবা’ উৎসব

ডেস্ক রিপোর্ট / ৮১ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক আবহে শুরু হয়েছে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও লোকজ উৎসব ‘লাই হারাওবা’। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার আদমপুরের তেতইগাঁও গ্রামে অবস্থিত মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

উৎসবের সূচনালগ্নে অংশগ্রহণকারী ভক্ত ও কলাকুশলীরা ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে বাঁশি, ঢাক-ঢোল ও পেনার সুরে। নিজস্ব ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন এবং মন্ত্রপাঠ উৎসবকে এনে দেয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক মাত্রা। সন্ধ্যায় নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে বাদ্যযন্ত্রের তালে পরিবেশিত নৃত্য ও সঙ্গীত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

৮ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই উৎসবকে ঘিরে পুরো আদমপুর এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে উৎসবটি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাত্রা। বিশেষ করে ভারতের মণিপুর থেকে আগত শিল্পী ও গবেষকদের উপস্থিতি আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশের সদস্য সচিব ওইমান লানথই এবং আহ্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল) জানান, ‘লাই হারাওবা’ মণিপুরি জনগোষ্ঠীর প্রাচীনতম ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর একটি। এর আক্ষরিক অর্থ ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। সৃষ্টি, বিশ্বতত্ত্ব, দিব্য সত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গভীর তাৎপর্য উৎসবের প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হয়।

ঐতিহ্যবাহী মন্ত্রপাঠ (লাইপৌ), সঙ্গীত এবং ‘মাইবী জাগোই’-সহ বিভিন্ন নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে মূলত সনামহী ধর্মাবলম্বীরা দেবতাদের আরাধনা ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই উৎসব উদযাপন করে থাকেন।

আয়োজকদের মতে, এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং মণিপুরি সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রাণকেন্দ্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষিত হয়ে আসছে।

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ) জানান, ইউনেস্কো বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে এবারের উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। এটি ‘বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে সম্প্রদায়ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, চিরাচরিত রীতি-নীতি অনুসরণ করে উৎসবটি উদযাপিত হচ্ছে এবং আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে এর সমাপ্তি ঘটবে। এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে মণিপুরি ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর