মৌলভীবাজারে ৯ হাজার পানগাছ ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জি পরিদর্শনে পুলিশ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠীর ১০টি পরিবারের ৯ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নার্সারি পুঞ্জি পরিদর্শন করেছেন কুলাউড়া সার্কেলের নবাগত সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, উপপরিদর্শক (এসআই) অলক বিহারী গুন ও মো. ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং, নার্সারি পুঞ্জির প্রধান জনি পতাম এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা।
ফ্লোরা বাবলি তালাং বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্বৃত্তরা নার্সারি পুঞ্জির পানজুমে ঢুকে ১০টি খাসিয়া ও গারো পরিবারের ৯ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলে। এতে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগেও সাহেব টিলা পুঞ্জিতে পানগাছ কাটার ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় পুঞ্জিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের জীবিকার প্রধান অবলম্বন পান চাষ। ফলে পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা বন্ধে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।







