শ্রীমঙ্গলে তরুণীকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ: জনরোষে পরিমল পাল
কম দামে ও সহজ কিস্তিতে স্মার্টফোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে গেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন পরিমল পাল নামের এক ব্যবসায়ী। তবে ঘটনার পরপরই আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি রফাদফা করে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের চৌমুহনা সংলগ্ন ‘টি টাউন গেস্ট হাউজে’ এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পরিমল পাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং শহরের মক্কা মার্কেটের ‘গীতা টেলিকম’-এর স্বত্বাধিকারী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সহজ শর্তে ও আকর্ষণীয় কিস্তিতে মোবাইল দেওয়ার নাম করে পরিমল পাল দীর্ঘদিন ধরে তরুণীদের বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক তরুণীকে টি টাউন গেস্ট হাউজে নিয়ে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে উপস্থিত জনতা গেস্ট হাউজ থেকে তরুণীসহ পরিমল পালকে হাতেনাতে আটক করে।
মুহূর্তের মধ্যেই আটকের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। নেটিজেনরা এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুকৌশলে এ ধরনের অনৈতিক ফাঁদ পেতে আসছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, জনতা আটকের পরপরই স্থানীয় একদল মধ্যস্থতাকারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি গোপনে মীমাংসা করে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রবীণ ও সচেতন নাগরিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, লোকলজ্জার সুযোগ নিয়ে এবং অর্থের বিনিময়ে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার এমন অপচেষ্টা সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনছে এবং অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। তাঁরা দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী এবং অনৈতিক মধ্যস্থতাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে লোকলজ্জা ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ওই তরুণীর সুনির্দিষ্ট পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পরিমল পাল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি, তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। ভুক্তভোগী পরিবার কিংবা সচেতন কারও পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







