শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কমলগঞ্জে পূজোর ছুটিতে পর্যটকদের ঢল আসামে ১১ শতাধিক বাংলাভাষী মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভাঙা হলো মসজিদ স্বর্ণের দামে বড় পতন ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুই নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সম্প্রীতির মেলবন্ধনে মৌলভীবাজারে মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর বড়লেখায় আলোচিত চুরির রহস্য উদঘাটন; চোরাই স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ৬ কমলগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মিনি ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কমলগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দুই সংসারের বিরোধ, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শ্রীমঙ্গলে যানজট নিরসন ও ফুটপাত উদ্ধারে মাঠে প্রশাসন

শিক্ষিত ও সমৃদ্ধময় সমাজ গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই -মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি

সালাহউদ্দিন শুভ / ১২৮ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

কমলগঞ্জের পাহাড়ঘেরা জনপদে এখনও অনেক পরিবারের কাছে শিক্ষার পথ সহজ নয়। কারও বাবার আয় চা-বাগানের শ্রমে, কেউ আবার বিদেশে থাকা স্বজনের পাঠানো টাকায় টিকে আছেন। সেই বাস্তবতায় বিদ্যালয়ের মঞ্চে যখন একে একে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন স্কুল ড্রেস ও মেধাবৃত্তির খাম তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন আনন্দের সঙ্গে মিশে ছিল ভবিষ্যৎ স্বপ্নেরও এক নীরব আলো।

শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় স্কুল ড্রেস বিতরণ, মেধাবৃত্তি প্রদান ও একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।

তিনি বলেন, ‘একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পাশাপাশি প্রবাসীরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন, তবে একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ কমলগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কমলগঞ্জের প্রবাসীদের অবদানের কথাও। তিনি বলেন, ‘উপজেলার একটি বড় অংশ বিদেশে অবস্থান করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে তাঁদের অবদান শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারেন।’

‘প্রবাসীরা যদি মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অর্থাভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না,’—বলেন তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এদিন ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন ড্রেস হাতে পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীর চোখেমুখে ফুটে ওঠে উচ্ছ্বাস। অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল স্বস্তির ছাপ। কারণ, নতুন পোশাক কিংবা পড়াশোনার খরচ—সবই অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়।

তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি রুনা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন দেবের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. সামছুননাহার পারভীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সোয়েব আহমেদ প্রমুখ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মুমিন, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সদস্যসচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অর্পিতা সরকার এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মোশারফ হোসেন শায়েক।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা, পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শেষপর্যন্ত প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন স্কুল ড্রেস এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা বৃত্তি তুলে দেন। ছোট্ট সেই আয়োজনে যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল একটি বড় প্রত্যাশা—শিক্ষার আলোয় বদলে যাক কমলগঞ্জের আগামী।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর