শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কমলগঞ্জে পূজোর ছুটিতে পর্যটকদের ঢল আসামে ১১ শতাধিক বাংলাভাষী মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভাঙা হলো মসজিদ স্বর্ণের দামে বড় পতন ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুই নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সম্প্রীতির মেলবন্ধনে মৌলভীবাজারে মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর বড়লেখায় আলোচিত চুরির রহস্য উদঘাটন; চোরাই স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ৬ কমলগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মিনি ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কমলগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দুই সংসারের বিরোধ, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শ্রীমঙ্গলে যানজট নিরসন ও ফুটপাত উদ্ধারে মাঠে প্রশাসন

স্মৃতিচারণআধ্যাত্মিক আবহে কমলগঞ্জে হাজারো মুসল্লির সম্মিলিত কবর জিয়ারত

ডেস্ক রিপোর্ট / ১১৮ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে এক অভূতপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে হাজারো মানুষের সম্মিলিত কবর জিয়ারত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় আসরের নামাজের পর উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহী গরম শাহ মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে এই বিশাল জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নিতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে দুপুরের পর থেকেই মুসল্লিরা জড়ো হতে শুরু করেন। আসরের নামাজ শেষে বালিগাঁও ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা প্রায় ৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

সম্মিলিত এই জিয়ারত পরিচালনা করেন বালিগাঁও শাহী ঈদগাহ মসজিদের খতিব মুফতি হারুনুর রশীদ। এসময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মুসল্লিরা দুই হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত ও পরকালীন মুক্তি কামনা করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতির অংশ হিসেবে এই জিয়ারত আয়োজন করা হয়। হাজারো মানুষের এই জিয়ারত অনুষ্ঠানটি এলাকায় দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ ধরনের সম্মিলিত আয়োজন মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে।

জিয়ারত শেষে বালিগাঁও গ্রামের প্রবীণ মুরব্বিরা আবেগাপ্লুত হয়ে তাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিচারণ করেন। তারা জানান, এই কবরস্থানে তাদের বাবা-দাদা ও আত্মীয়-স্বজনরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। হাজারো মানুষের এই সম্মিলিত দোয়া তাদের আত্মার শান্তিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

উপস্থিত কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ মুসল্লি বলেন, ‘আজকের এই জনসমুদ্র আমাদের ছোটবেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তখনো মানুষ এভাবে দলবেঁধে জিয়ারতে আসত। আজ ৫ হাজার মানুষের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে, মানুষ এখনো তার শিকড় এবং হারানো স্বজনদের ভুলে যায়নি।’

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরানুর রহমান ইমরাস বলেন, ‘প্রতি বছর আমাদের এলাকায় শবেবরাতের দিন এই জিয়ারতের আয়োজন করা হয়। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ একসাথে মিলিত হন। অনেকের আত্বীয়স্বজন ও মা বাবার জন্য তারা জিয়ারতে উপস্থিত হয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করেন।’

মুফতি হারুনুর রশীদ তার বয়ানে উল্লেখ করেন, ‘কবর জিয়ারত শুধু মৃতদের জন্যই নয়, বরং এটি আমাদের নিজেদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং পরকালের পাথেয় সংগ্রহের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন ‘প্রতিবছর এইদিনটাতে একসাথে হাজার মানুষ জিয়ারতে অংশগ্রহণ করেন। আল্লাহর কাছে সকলের প্রার্থনা যেন কবুল হয়।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর