শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কমলগঞ্জে পূজোর ছুটিতে পর্যটকদের ঢল আসামে ১১ শতাধিক বাংলাভাষী মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভাঙা হলো মসজিদ স্বর্ণের দামে বড় পতন ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুই নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সম্প্রীতির মেলবন্ধনে মৌলভীবাজারে মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর বড়লেখায় আলোচিত চুরির রহস্য উদঘাটন; চোরাই স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ৬ কমলগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মিনি ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কমলগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দুই সংসারের বিরোধ, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শ্রীমঙ্গলে যানজট নিরসন ও ফুটপাত উদ্ধারে মাঠে প্রশাসন

শিক্ষার প্রসারে উৎসর্গকৃত এক জীবন: কমলগঞ্জে প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানার রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৫৫ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা প্রসারে এক অনন্য নাম পারভীন সুলতানা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পৌর এলাকার শ্রীনাথপুর গ্রামে অবস্থিত শ্রীনাথপুর আলমাছ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মহীয়সী শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরি থেকে তাঁর এই অবসর গ্রহণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিদায় ছিল না, বরং তা ছিল এক ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান পথপ্রদর্শকের প্রতি পুরো জনপদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মুহূর্ত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সোমা ভট্টাচার্য।

মবশ্বির আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিশিষ্ট গবেষক আহমদ সিরাজের সভাপতিত্বে এবং মো. মোশাহীদ আলীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা পারভীন সুলতানার কর্মজীবনের বিরল ত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
বক্তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, পারভীন সুলতানা কেবল একজন শিক্ষক নন, বরং এই বিদ্যাপীঠের প্রাণপুরুষ।

তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিজের বিয়ের কাবিনে প্রাপ্ত মূল্যবান জমি দান করে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান যুগে যখন ব্যক্তিস্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন নিজের সম্পদ বিলিয়ে দিয়ে মানুষ গড়ার কারিগর হওয়ার এমন দৃষ্টান্ত বিরল। তাঁর এই আত্মত্যাগ কমলগঞ্জের শিক্ষানুরাগী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।

বিদায়ী বক্তব্যে পারভীন সুলতানা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা বেগম ও শংকর চন্দ্র দেবনাথসহ অন্যান্য বক্তারা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে বিষণ্ণ সুর বেজে ওঠে। শিক্ষার্থীরা জানায়, ম্যাডামের ভালোবাসা ও সঠিক দিকনির্দেশনাই তাদের আগামীর পথচলার পাথেয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে মিরা বেগম ও চৌধুরী আসিফ ইবনে জামালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। পরিশেষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা স্মারক ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়। এক মহৎ প্রাণের বিদায়ে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বিষণ্ণ কিন্তু গৌরবোজ্জ্বল আবহ তৈরি হয়, যা উপস্থিত সবার মনে এক গভীর রেখাপাত করে।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর