সরকারি যন্ত্রে ধুলোর আস্তরণ, বেসরকারি ল্যাবে ছুটছেন নিম্নবিত্তরা
কক্ষের ভেতরে ধুলো জমছে লাখ লাখ টাকা মূল্যের আধুনিক আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে যন্ত্রপাতিতে। অথচ বাইরে দাঁড়িয়ে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন রোগীরা। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে মাসের পর মাস ধরে বন্ধ রয়েছে মৌলিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ফলে উপজেলার চা-শ্রমিক, দিনমজুর ও প্রান্তিক আয়ের মানুষদের বাড়তি অর্থ গুনে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে; অর্থাভাবে অনেকে আবার চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আলট্রাসনোগ্রাফির দুটি সচল মেশিন থাকা সত্ত্বেও কোনো সনোলজিস্ট নেই। ফলে প্রায় তিন মাস ধরে আলট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের তালা আর খোলেনি। অন্যদিকে, হাসপাতালে থাকা একমাত্র অ্যানালগ এক্স-রে মেশিনটিও গত জুন থেকে পুরোপুরি অচল। আগে বেসরকারি সংস্থা ‘ব্র্যাক’-এর একটি প্রকল্পের আওতায় একজন টেকনোলজিস্ট সেবা দিলেও প্রকল্পটির মেয়াদ শেষে আর কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ফলে জরুরি এসব ডায়াগনস্টিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগ নির্ণয় বিভাগে ছুটে গিয়েও খালি হাতে ফিরছেন সেবাগ্রহীতারা। কম খরচে পরীক্ষা করানোর ভরসায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী জলিল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসি যাতে অল্প খরচে টেস্ট করাতে পারি। কিন্তু এখানে মেশিন বন্ধ থাকায় বাইরে ছুটতে হয়। টেস্টের খরচ ছাড়াও যাতায়াতে আলাদা টাকা নষ্ট হয়।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মেহেরুন বেগম নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের বেশিরভাগ রোগীই দিনমজুর বা চা-বাগানের সীমিত আয়ের মানুষ। সরকারি যন্ত্র যদি পড়ে পচেই যায়, তবে আমাদের মতো গরিব মানুষের লাভ কী? যন্ত্রের চেয়ে আজ লোকবলের অভাবই আমাদের বড় রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “সনোলজিস্ট ও টেকনোলজিস্ট না থাকায় এবং মেশিনটি অ্যানালগ প্রযুক্তির হওয়ায় রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় সীমিত সামর্থ্য দিয়েই বাকি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ এবং একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের চাহিদা জানিয়ে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।
সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও মাঠপর্যায়ে জনবলের সমন্বয়ের অভাবে সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুততম সময়ে শ্রীমঙ্গলে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ও টেকনোলজিস্ট পদায়নের দাবি স্থানীয়দের।







