মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ – কমলগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত কুলাউড়ায় পানগাছ কাটার প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে মানববন্ধন, স্মারকলিপি ধলাই নদীতে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা কমলগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপিত; বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান খাবারের আগে অলিভ অয়েল খেলে রক্তে শর্করা বাড়ে ধীরে, বলছে গবেষণা শ্রীমঙ্গলের স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি ​শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবের সমাপ্তি, ৭ ‘বেস্ট রিডার’কে ল্যাপটপ প্রদান কমলগঞ্জে ভারতীয় মদসহ দুই যুবক আটক মৌলভীবাজারে ৯ হাজার পানগাছ ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জি পরিদর্শনে পুলিশ শ্রীমঙ্গলে তরুণীকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ: জনরোষে পরিমল পাল

মেট্রোরেল দুর্ঘটনায় মৃ/ত্যু/র আগে জীবন থেকে পালাতে চেয়েছিলেন কালাম

অনলাইন ডেস্ক / ১৬৪ দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫

ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। এক মুহূর্তে থেমে গেল আবুল কালাম (৩৫) নামের তরুণ উদ্যোক্তার জীবন। মেট্রোরেলের একটি পিলার থেকে একটি ভারী ধাতব যন্ত্রাংশ ‘বিয়ারিং প্যাড’ মাথায় পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

আবুল কালামের পরিবার ও পরিচিতরা জানান, তিনি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি এলাকার জলিল চোকদারের ছেলে। পড়াশোনার শেষ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন। তার ব্যস্ত ব্যবসায়িক জীবনের কারণে ফার্মগেট এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। ছেলে আব্দুল্লাহর বয়স ৫ বছর, আর মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের বয়স ৩ বছর। পরিবার নিয়ে তারা বসবাস করতেন নারায়ণগঞ্জে।

কিন্তু এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আগের রাতে আবুল কালামের ফেসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে তিনি লিখেছিলেন, ‘ইচ্ছে তো অনেক। আপাতত যদি জীবন থেকে পালিয়ে যেতে পারতাম।’

পরবর্তী দিন দুপুরে এই পোস্টের সত্যিকারের তাৎপর্য প্রকাশ পেল— দুর্ভাগ্যবশত জীবন আর তাকে ধৈর্য ধরতে দেয়নি।

তারেক আজিজ নামের একজন বন্ধু ও সহকর্মী পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, সি এম আজাদ আবুল কালাম ভাইয়ের ফেসবুকের শেষ পোস্ট। আজকে মেট্রো রেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে তিনি নিহত হয়েছেন। কিছু মৃত্যু মেনে নিতে খুবই কষ্ট হয়।

ফার্মগেট এলাকায় স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ধরনের যন্ত্রাংশের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। কেউ যেন আর এমন দুর্ঘটনার শিকার না হন।

আবুল কালামের বন্ধু ও সহকর্মীরা বলেন, আবুল সবসময় জীবনকে ভালোবাসতেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, কাজ করতে ভালোবাসতেন। তার এমন হঠাৎ চলে যাওয়ায় আমরা কেউই মানতে পারছি না।

আজ আবুল কালামের ছোট্ট ছেলে ও মেয়ের চোখের সামনে একটি অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এক জীবনের গল্প, এক বাবার স্নেহ, আর এক ব্যর্থ যান্ত্রিক নিরাপত্তার ফল—সব মিলিয়ে এই দুর্ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে জীবন কতটা ভ্রান্ত এবং অপ্রত্যাশিত হতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর :
এক ক্লিকে বিভাগের খবর